শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৬ অপরাহ্ন
গোদাগাড়ী প্রতিনিধি
অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত, দুর্নীতিতে জড়িত আর সাংবাদিকদের হয়রানি—এমন গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানকে ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো জনপদ। স্থানীয়রা বলছেন, গোদাগাড়ী উপজেলা প্রশাসনের ছত্রছায়ায় এমন কর্মকাণ্ড দিনের পর দিন চললেও প্রশাসন বরং অভিযুক্তদের বাঁচাতে উঠে পড়ে লেগেছে।
সোমবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের গেটের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে জনতা। মানববন্ধনে অংশ নেন স্থানীয় সাংবাদিক, সাধারণ মানুষ এবং নানা শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। তাঁরা বলেন, আওয়ামী লীগের দোসর বর্তমান ইউএনও ফয়সাল আহমেদের প্রত্যক্ষ মদদে হাফিজুর ও তাঁর কথিত ‘সহযোগী’ কাজের মেয়ে রুবিনার যৌথ ষড়যন্ত্রে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে সাংবাদিকসহ স্থানীয়দের।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ ফেব্রুয়ারি। গোদাগাড়ী উপজেলার রূপালী ভবনের দ্বিতীয় তলায় হাফিজুর ও রুবিনাকে আপত্তিকর অবস্থায় জনতা হাতে-নাতে আটক করে। তাৎক্ষণিক উপস্থিত হন দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি অলিউল্লাহসহ আরও অনেকে। এই ঘটনায় দেশব্যাপী চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় ভিডিওটি। এরপর থেকেই শুরু হয় ষড়যন্ত্রের জাল বোনা।
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিশোধ নিতে গোদাগাড়ী থানার ওসি রুহুল আমিনের সহায়তায় দায়ের করা হয় মিথ্যা মামলা। হাফিজুর কেবল মামলাতেই থামেননি; ওই নারীকে বিয়েও করেন, পরে সাংবাদিকদের হুমকি-ধামকি দেন। স্থানীয়রা বলছেন, এমন চরিত্রহীন কর্মকর্তা বহাল থাকলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
মানববন্ধনে সাংবাদিকরা বলেন, ১ মার্চ ও ৬ এপ্রিল হাফিজুর ও রুবিনা মিথ্যা মামলা করেছেন। তাদের অভিযোগের পেছনে ইউএনওর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদ রয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করায় সাংবাদিকদের হয়রানির ঘটনায় আরও বেশি ক্ষুব্ধ জনতা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন আমার দেশ পত্রিকার সাইফুল ইসলাম, কালবেলার জামিল, সংগ্রামের আব্দুল খালেক, উপচারের সারোয়ার সবুজ, সময়ের আলোর আবু তাহের, মানবকণ্ঠের মানিক হোসেন, নববাণীর মনিরুল ইসলাম, জনকণ্ঠের অলিউল্লাহ এবং অসংখ্য সাধারণ মানুষ।
মানববন্ধনে বক্তারা হাফিজুর রহমান ও ইউএনও ফয়সাল আহমেদের অপসারণ, সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং দোষীদের বিচার দাবিতে সোচ্চার হন। তারা বলেন, দাবি না মানলে সামনে উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি থেকে শুরু করে আরও কঠোর আন্দোলন চলবে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসক ও প্রধান উপদেষ্টার বরাবর স্মারকলিপি ও লিখিত অভিযোগও দেওয়া হবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, হাফিজুরের বিরুদ্ধে এর আগেও ১৮ আগস্ট ২০২৪ সালে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কাছে ১৭৫৬ নম্বর ডকেটে ঘুষ, দুর্নীতি ও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবুও কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে গোদাগাড়ীবাসীর কাছে।
প্রশ্ন একটাই—প্রশাসন কি দুর্নীতির পক্ষে, নাকি জনগণের?